লেখাপড়া-চাকরির পাশাপাশি মোবাইল দিয়ে আয়ের ৭ টি উপায়

শিক্ষার্থীরা লেখা-পড়ার ফাঁকে বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রচুর পরিমানে আয় করতে পারে। যেটা সে ইচ্ছা করলে তার ক্যারিয়ার হিসেবেও নিতে পারে। এর জন্য লাগবে একটু ধৈর্য। আজ তেমনি কিছু গ্যারান্টিযুক্ত কাজ নিয়ে বলবো যা আপনি মোবাইল দিয়েও করতে পারেন। অনেকে মোবাইল দিয়ে আয়ের বিষয়ে অনেক আগ্রহী। এর আগে বলে নেই, অনেকে বিভিন্ন এ্যাপের মাধ্যমে ইনকামের কথা বলে। কিন্তু এগুলো আপনার সময় নষ্ট করবে অনেক। কাজের কাজ কিছুই হয় না৷


মোবাইল দিয়ে আয়ের ৭ টি উপায়:

১. ফেসবুক পেজ:

আপনি কি জানের ফেজবুকের পেজ থেকে আয় করা যায়? হ্যাঁ অবশ্যই যায়। আপনি আজই একটা ফেসবুক পেজ খুলুন। ক্যাটেগরি হিসেবে  Video Creator ও সিলেক্ট করুণ। কারণ, বাংলাদেশেও কিছুদিনের মধ্যে ভিডিওতে এড দেখানো শুরু হবে এবং এর জন্য আপনাকে কিছু মুনাফা দেবে ফেসবুক। এটাকে বলে  Facebook For Creators। এরপর সময় দিয়ে ইন্টারেস্টিং কিছু পোষ্ট করুণ। যেমনঃ গল্প, কৌতুক, তথ্য বহুল পোষ্ট, টেকনিক্যাল পোষ্ট, ছোট ছোটো ভিডিও। এভাবে জনগনের এ্যাটেনশন নিয়ে পেজটাতে ফলোয়ার বাড়াতে থাকুন। এক সময় এই পেজটিই আপনায় আয়ের উৎস হবে। মানুষের পন্য, ওয়েবসাইট, ইউটিউব ভিডিও প্রমোট করে প্রচুর আয় করতে পারবেন।

২. ফেসবুক গ্রুপ:

পেজে ফলোয়ার বাড়ানোর চেয়ে গ্রুপে মেম্বার বাড়ানো আরো সোজা। গ্রুপ খুলে গ্রুপটাকে সবসময় মুখিয়ে রাখুন। গ্রুপে মেম্বার অটোমেটিক বাড়তে থাকে। আপনার যতবেশি ফলোয়ার-অডিয়েন্স ততবেশি আয়ের সম্বাবনা। দিন দিন মার্কেটিং এর ধারা পরিবর্তন হচ্ছে। আপনার একটা প্রতিষ্ঠিত পেজ বা গ্রুপ আছে মানেই আপনার হতে বিশাল একটা আয়ের উৎস আছে।

৩. ব্লগিং করে আয়:

ব্লগিং করে আপনি প্রচুর আয় করতে পারেন। ব্লগিং করতে ওয়েবসাইট লাগে। আর ওয়েবসাইট আপনি ফ্রিতে বানাতে পারেন। এর জন্য আপনাকে blogger.com এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট বানাতে হবে। এরপর পোষ্ট করতে হবে। ১০০ এর উপরে পোষ্ট হলে এবং মোটামোটি ভালো ভিজিটর আসলে ওয়েবসাইটে এডসেন্স লাগিয়ে আয় করতে পারেন। সাবধান কোনো জায়গা থেকে লেখা কপি করে ব্লগে পোষ্ট করা যাবে না, তাাহলে আপনাকে  Adsense তো দুরের কথা কোনো এড নেটওয়ার্ক আপনাকে এড দেবে না। এটা ব্লগিং এর পূর্বশর্ত।

TrickyTalk.com ওয়েবসাইটটি  Google এর blogger দিয়ে বানানো।  blogger দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করলে আপনার ওয়েবসাইটের নাম হবে xxyyzz.blogspot.com এমন।  অর্থাৎ শেষে   .blogspot.com থাকবে। এতে করে আপনার গুগলে এডসেন্স পেতে বা টাকায় আয় করতে কোনো সমস্যা হবে না। তবু আপনি যদি টপলেভেল ডোমেইন নেম সেট করতে চান। তাহলে .com ডোমেইন কিনে সেটা কানেক্ট করতে হবে। যেমন, এই ওয়েবসাইটি খোলার সময় এটার নাম ছিল, tricksrow.blogspot.com।  এখন  TrickyTalk.com সেট করার পর TrickyTalk.com লিখলে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়। এখন আপনি tricksrow.blogspot.com লিখলে সেটা  trickytalk.com এ রিডাইরেক্ট হয়ে হয় আসে।

তো আপনি যদি একান্তই  .com নিতে চান তাহলে প্রতিবছর ১১০০ টাকা দিতে হবে  .com ডোমেইনের জন্য। আপনার যদি মাস্টার কার্ড না থাকে তাহলে আপনাকে ডোমেইন আমরা কিনে দিতে পারি।

দ্রষ্টব্যঃ blogger দিয়ে ওয়েবসাইট বানানোর সুবিধা হলো এতে ওয়েবসাইট বানানো একেবারই ফ্রী। মানে হোস্টিং বা ফাইল জমা রাখার বাবদ ব্লগার কোনো ফি নেয় না। আপনি টাকা খরচ করে. Com বা টপ লেভেল ডোমেইন নিতেও পারেন আবার নাও নিতে পারেন। ভিজিটরদের মনে রাখার জন্য এটা আপনি করতে পারেন। কিন্তু না করলে কোনো সমস্যা নেই।

যেকোনো বিষয়ে সাহায্যের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজে মেসেজ করতে পারেনঃ https://facebook.com/TrickyTalkFans

৪. ইউটিউবিং:

Youtube  হলো অনলাইনে ক্যারিয়ার গঠনের সবথেকে ভালো এবং সহজ উপায়। আপনি ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, মার্কেটিং শিখতে আলাদাভাবে শিখতে গেলে সময় ও মেধা খরচ করতে হয়। ক্লাইন্টদের সাথে কথা বলা এবং কাজ নিয়ে করা অনেকে ঝামেলা মনে করে এগুলো। সে তুলনায় ইউটিউব খুবই সোজা। একটু সৃজনশীলতা খাটিয়ে সহজেই দারুণ ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করা যায়। আপনাকে সর্টফ্লিম মুভি বানাতে হবে না। সহজ এবং মোবাইল দিয়ে করা যায় এমন কিছু ক্যাটেগরি নিয়ে কাজ করতে পারেন। কম্পিউটার থাকলে তো কথাই নেই।

মোবাইল দিয়ে ইউটিউবিং করা যায় এমন কিছু ক্যাটেগরিঃ

  • Vlogging:

বিভিন্ন দোকান, হাট বাজারে, শোরুমে গিয়ে প্রডাক্ট ও প্রডাক্ট এর দাম দেখিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন। আইডিয়া নিতে NabenVlogs  ইউটিউব চ্যানেলটি ঘুরে আসুন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন।

  • Picture Slide Video:

এক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে কথা বলতে হবে এবং সেই রিলেটেড ছবি পর্দায় দেখাবেন।  Pinikpi চ্যানেলটি ঘুরে আসলে বিষয়টি বুঝতে পারবেন।

  • Video tutorial:

ভিডিও টিউটরিয়াল বানানো একটি সহজ ক্যাটেগরি ইউটিউবে কাজ করার জন্য। মোবাইলের টিউটরিয়াল বানাতে ADV Screen Recorder ব্যবহার করতে পারেন।

  •  Mobile Filming:
মোবাইল ফ্লিলমিং দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সর্ট ফ্লিম মিউজিক ভিডিও সব মোবাইল দিয়ে হচ্ছে এখন। আপনি যদি একা একাই কিছু করতে চান তাহলে  BB ki Vines চ্যানেলটি ঘুরে আসুন। ইন্ডিয়ার বড় এবং জনপ্রিয় চ্যানেলগুলোর মধ্যে একটি। উনি একাই সব ক্যারেক্টারে অভিনয় করেন মোবাইল/ক্যামেরা এক হাতে নিয়ে। এবং তার চ্যানেলের ১০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার আছে এখন।

মোবাইল দিয়ে ইউটিউব চ্যানেলের যাবতীয় কাজ করতে ইউটিউবের  Youtube Studio এ্যাপটি ডাউনলোড করুন। কোনো প্রকার সাহায্য লাগলে নিচে কমেন্ট করুন।

৫. মানুষের ব্লগে লিখে আয় করুন: 

বাংলাদেশে অনেক বড় বড় ব্লগ আছে যেগুলোতে আপনি লেখক হিসেবে জয়েন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাদের শর্ত মেনে পোষ্ট করতে হবে। গ্রহনযোগ্য মানের পোষ্ট করতে হবে।

আপনি নতুন হলে  TrickBD.com এ  Writter হিসেবে জয়েন করতে পারেন। তবে বর্তমানে footprint.press ওয়েবসাইটটি প্রতি পোষ্ট এর জন্য ১০০টাকা করে পেমেন্ট দেয়।

আপনি কোনো বিষয়ে ভালো এবং অভিজ্ঞ হলে techtunes.com.bd তে লেখালেখি করে আয় করতে পারেন।

তবে আমি বলবো, মানুষের ব্লগেই যদি খাটতে চান তাহলে সেটা নিজের ব্লগেই খাটুন। তাহলে ব্লগটা আপনার নিজেরই সম্পদ হচ্ছে।

৬. অনলাইনে পন্য বিক্রি করে আয়:

আপনার যদি কোনো পন্য থাকে তাহলে তা bikroy.com এর মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন। বর্তমান অনেক ব্যবসায়ী ও ছোট বিক্রেতারা bikroy.com এ Agent/Marchant একাউন্ট খুলে ভালো বিক্রি করছে। এছাড়াও ফেসবুকে বিজনেস পেজ খুলে আপনার পন্য শোকেস করতে পারেন। আর চাইলে ইকমার্স ওয়েবসাইট খুলে সেটার মাধ্যমেপ পন্য বিক্রি করতে পারেন। অনেকের কাছে এটা ঝামেলাময় মনে হতে পারে। নতুনদের জন্য না করারই পরামর্শ থাকলো।

৭. ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট:

মোবাইল দিয়ে আপনি কারো ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেলের ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন। পোষ্ট করা কমেন্ট ও মেসেজের রিপ্লে দেওয়ার মত কাজগুলো মোবাইল দিয়েই করা যায়। তবে আপনার যদি কম্পিউটার থাকে তাহলে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেক ধরণের ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টের কাজ করতে পারেন।

যেহেতু মোবাইল দিয়ে আয়ের বিষয়ে এই পোষ্ট, তাই এই পোষ্টটি সম্পূর্ন মোবাইল দিয়ে লেখা। ২ ঘন্টার মতো সময় লেগেছে এটা লিখতে। 


আজ এ পর্যন্ত, আপনি কোন কাজটিতে আগ্রহী মতামত কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। কোনো বিষয়ে জানার থাকলে সেটাও কমেন্ট করুন। লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সবাই দেখার সুযোগ করে দিন। এবং ট্রিকিটকে প্রতিদিন ভিজিট করুন নতুন নতুন বিষয়ে জানতে থাকুন।




শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট