চোখের মাইনাস পাওয়ার জনিত সমস্যার সমাধান

চোখের মাইনাস পাওয়ার জনিত সমস্যার থেকে মুক্তি উপায়

চোখের মাইনাস পাওয়ার জনিত সমস্যা নিয়ে প্রায় সবার মনেই একই রকম কিছু প্রশ্ন কাজ করে। যেমন, চোখের মাইনাস পাওয়ার জনিত সমস্যা কি ঠিক হয়? চশমার পাওয়ার কমানোর কি কোনো উপায় আছে? চোখের মাইনাস পাওয়ার জনিত সমস্যা সমাধানের কি কোনো ওষুধ আছে? কিছুদিন পর পর চশমার পাওয়ার বাড়ে কেন? চোখের মাইনাস পাওয়ার জনিত সমস্যা স্থায়ী সমাধান কি?
প্রথমে জানা দরকার,

চোখের মাইনাস পাওয়ার জনিত সমস্যা কেন হয়?

  • চোখের সঠিক বিশ্রাম না হলে।
  • কাছ থেকে থেকে টিভি দেখলে, অতিরিক্ত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে।
  • আঘাত জনিত কারণে।
  • চোখে সানি পড়লে।
  • বংশগত কারণে।
  • পুষ্টির অভাবে।
  • শারীরিক দুর্বলতার কারণে।
  • চোখের কোনো অসুখ হলে।
আপনার যদি চোখের মাইনাস পাওয়ার জনিত সমস্যা অর্থাৎ মাইয়োপিয়ার (সল্পদৃষ্টি) সমস্যা হয়, তাহলে আপনাকে অতিদ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তার চশমা দিলে সেটা ব্যবহার করতে হবে। নয়তো দীর্ঘমেয়াদী বড় কোন সমস্যা হতে পারে।

কিছুদিন পরপর চশমার পাওয়ার বাড়ে কেন?

মানুষের শারীরিক পরিবর্তন/বৃদ্ধি ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত হয়ে থেকে। ধরুন, কারো যদি ১৫ বছরে মাইনাস ১.৫০ লাগে, তাহলে, ১৮ বা ২০ বছরে মাইনাস ৩.০০ লাগতে পারে।  কারো পাওয়ার বাড়ার হার বেশি, কারো কম। অনেকে একটি নিদৃষ্ট পাওয়ার নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়। চশমার পাওয়ার কমার সম্ভাবনা কম। তবে, অনেক ব্যাতিক্রম আছে, আল্লাহ চাইলে ঠিকও হতে পারে। যত্ন ও চিকিৎসা নিলে পাওয়ার স্থিতিশীল থাকে।  তাই, ২০-২৫ বছর পর্যন্ত চোখের ভালোভাবে যত্ন নিন।

চশমার পাওয়ার না বাড়ার জন্য করণীয় কি?

চশমার পাওয়ার যাতে না বাড়ে তার জন্য কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন। একজন সুস্থ্য মানুষের চোখের জন্যও এসব নিয়ম মেনে চলা খুবই জরুরী।

১। বই পড়া, মোবাইল-কম্পিউটার, টিলিভিশন স্ক্রিন দেখার সময় ২০ মিনিট পর পর ২০ সেকেন্ড করে চোখ বন্ধ করে রাখুন।
২। একটানা বই, মোবাইল-কম্পিউটার কিংবা টিভি স্ক্রিনে তাকিয়ে না থেকে কিছুক্ষণ পর পর দুরের জিনিস তাকান।
৩। কম আলোতে চোখের কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। যেমন, বই পড়া, সেলাই করা, টিভি দেখা ইত্যাদি।
৪। অন্ধকার ঘরে মোবাইল, কম্পিউটার, টেলিভিশনের উজ্জল স্ক্রিন দেখা একদমই বাদ দিন।
৫। ঘুমের আগে মোবাইল টেপা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এসময় মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে অনিদ্রা রোগ হতে পারে এবং চোখের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
৬। মাথা ব্যাথা করলে ডাক্তারে কাছে যান। কারণ, পাওয়ারের অসংগতি, কম বা বেয়ি হলে মাথা ব্যাথা হতে পারে।
৭। অনেকের মিস্টি জাতিয় খাবার খেলে মাথা ব্যাথা, চোখে অলসভাব আসে। সেক্ষেত্রে মিস্টিজাত খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন।
৮। প্রচুর সবুজ শাক-সবজি খান। বিশেষ করে, সজনে পাতা, কচু চোখের জন্য খুবই উপকারী।

চোখের পাওয়ার জনিত সমস্যা সমাধানের কোনো ওষুধ আছে কি?

মাথা ব্যাথা করলে যেমন প্যারাসিটামল খেলে সেরে যায়, বা টাইফয়েড হলে যেমন এন্টিবায়টিক খেলে বা ইনজেকশন দিলে সেরে যায়। চোখের পাওয়ার জনিত সমস্যার বিষয়টা ঠিক তেমন নয়। চোখের সমস্যার কারণ নির্ধারন করে সেটার চিকিৎসা করলে চোখ ঠিক হতে পারে। তাছাড়া, ডাক্তাররা বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে আপনাকে ওষুধ দেয়। এজন্য, ডাক্তারদেরকে দেখার সমস্যার পাশাপাশি, পানি পড়ে কি না, চোখ চুলকায় কি না, এলার্জি আছে কিনা বিস্তারিত বলতে হয়। সব ডাক্তার এসব বিষয় নিজে থেকে জিজ্ঞেস করে নেয়।

তবে, এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক নিশ্চয়তা দিতে পারবে না যে চশমা পড়লে আপনার চোখ একেবারই ঠিক হবে। তারা শুধু এটা গ্যারান্টি দেয় , চশমা পড়লে আপনি ভালো থাকবেন। চোখের জটিলতা বাড়বে না।

চোখের মাইনার পাওয়ার জনিত সমস্যা স্থায়ী সমাধান

চোখের সমস্যার কারণে চাকরি কিংবা চলার পথে যখন বাধার সম্মুখীন হবেন, তখন এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধানের কথা মনে পরে। আর তা হলো ল্যাসিক সার্জারি (Lasik Surgery)। এটাই সর্বাধুনিক চিকিৎসা। ল্যাসিক করানোর পর আপনার সারাজীবন আর দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হবে না।

আরো পড়ুন: ল্যাসিক কি? ল্যাসিক এর খরচ কত? বাংলাদেশে ল্যাসিক সার্জারির স্থান সমূহ ও বিস্তারিত

শেয়ার করুন
পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট